০১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিলের পর কুরাসাও, বিশ্বকাপে আবার জার্মানির ৭ গোল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময়: ০২:২৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / ৩৭ টাইম ভিউ

২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের জালে সাত গোল দিয়েছিল জার্মানি। এক যুগ পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবার সাত গোল করল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।এবার তাদের প্রতিপক্ষ কুরাসাও।

রোববার হিউস্টন স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে জার্মানি।জার্মানির হয়ে জোড়া গোল করেন কাই হাভার্টজ। একটি করে গোল করেন ফেলিক্স এনমেচা, নিকো শ্লটারবেক, জামাল মুসিয়ালা, ন্যাথানিয়েল ব্রাউন ও দেনিজ উনদাভ।কুরাসাওর একমাত্র গোলটি করেন লিভানো কোমেনেন্সিয়া।

স্কোরলাইন বড় হলেও ম্যাচের শুরুর গল্পটা ছিল অন্য রকম।ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় জার্মানি। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস থেকে বক্সের ওপর থেকে দারুণ শটে গোল করেন এনমেচা।

শুরুতেই গোল হজম করলেও ভেঙে পড়েনি কুরাসাও। বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে অভিষেক হওয়া দলটি ২১তম মিনিটে সমতায় ফেরে। জার্মান রক্ষণ সামলে ওঠার আগেই আক্রমণে উঠে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান কোমেনেন্সিয়া। বিশ্বকাপে কুরাসাওর ইতিহাসে এটিই প্রথম গোল।

গোলের পর উল্লাসে ফেটে পড়েন কুরাসাওর সমর্থকেরা। গ্যালারিতে জার্মান সমর্থকদের সংখ্যাই বেশি ছিল, তবে ‘ব্লু ওয়েভ’ সমর্থকদের ছোট্ট অংশটিও সেই মুহূর্তে তৈরি করে আলাদা আবহ।

সমতায় ফেরার পর কিছু সময় জার্মানিকে অস্বস্তিতে রেখেছিল কুরাসাও। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজেদের হাতে নেয় জুলিয়ান নাগেলসমানের দল। ৩৮তম মিনিটে ন্যাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন শ্লটারবেক। আবার এগিয়ে যায় জার্মানি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ে। বক্সের ভেতর এনমেচাকে ফাউল করেন রিচেডলি বাজোয়র। পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পট কিক থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন হাভার্টজ।

বিরতির পর জার্মানির দাপট আরও বাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছু পরই, ৪৭তম মিনিটে দারুণ এক গোলে ব্যবধান ৪-১ করেন মুসিয়ালা। কিমিখের পাস ধরে কঠিন কোণ থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি।

৬৭তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো বাকুনা বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। কিছুক্ষণ পর ফ্রি-কিক থেকেও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিল কুরাসাও, কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

৬৮তম মিনিটে জার্মানির পঞ্চম গোলটি করেন ব্রাউন। উনদাভের পাস থেকে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান তিনি। ৭৮তম মিনিটে কিমিখের পাস থেকে কাছ থেকে গোল করেন বদলি নামা উনদাভ।

ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হাভার্টজ। উনদাভের পাস পেয়ে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে পাঠান তিনি। তাতেই ৭-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় জার্মানির।

২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পথে সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল জার্মানি। বেলো হরিজন্তের সেই ৭-১ এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত স্কোরলাইনগুলোর একটি। এবার কুরাসাওর বিপক্ষে সেই একই স্কোরলাইন আবার ফিরিয়ে আনল জার্মানরা।

ট্যাগ:

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

ব্রাজিলের পর কুরাসাও, বিশ্বকাপে আবার জার্মানির ৭ গোল

আপডেট সময়: ০২:২৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের জালে সাত গোল দিয়েছিল জার্মানি। এক যুগ পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবার সাত গোল করল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।এবার তাদের প্রতিপক্ষ কুরাসাও।

রোববার হিউস্টন স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘ই’-এর ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে জার্মানি।জার্মানির হয়ে জোড়া গোল করেন কাই হাভার্টজ। একটি করে গোল করেন ফেলিক্স এনমেচা, নিকো শ্লটারবেক, জামাল মুসিয়ালা, ন্যাথানিয়েল ব্রাউন ও দেনিজ উনদাভ।কুরাসাওর একমাত্র গোলটি করেন লিভানো কোমেনেন্সিয়া।

স্কোরলাইন বড় হলেও ম্যাচের শুরুর গল্পটা ছিল অন্য রকম।ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় জার্মানি। ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস থেকে বক্সের ওপর থেকে দারুণ শটে গোল করেন এনমেচা।

শুরুতেই গোল হজম করলেও ভেঙে পড়েনি কুরাসাও। বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে অভিষেক হওয়া দলটি ২১তম মিনিটে সমতায় ফেরে। জার্মান রক্ষণ সামলে ওঠার আগেই আক্রমণে উঠে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান কোমেনেন্সিয়া। বিশ্বকাপে কুরাসাওর ইতিহাসে এটিই প্রথম গোল।

গোলের পর উল্লাসে ফেটে পড়েন কুরাসাওর সমর্থকেরা। গ্যালারিতে জার্মান সমর্থকদের সংখ্যাই বেশি ছিল, তবে ‘ব্লু ওয়েভ’ সমর্থকদের ছোট্ট অংশটিও সেই মুহূর্তে তৈরি করে আলাদা আবহ।

সমতায় ফেরার পর কিছু সময় জার্মানিকে অস্বস্তিতে রেখেছিল কুরাসাও। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজেদের হাতে নেয় জুলিয়ান নাগেলসমানের দল। ৩৮তম মিনিটে ন্যাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন শ্লটারবেক। আবার এগিয়ে যায় জার্মানি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ে। বক্সের ভেতর এনমেচাকে ফাউল করেন রিচেডলি বাজোয়র। পেনাল্টি পায় জার্মানি। স্পট কিক থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৩-১ করেন হাভার্টজ।

বিরতির পর জার্মানির দাপট আরও বাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছু পরই, ৪৭তম মিনিটে দারুণ এক গোলে ব্যবধান ৪-১ করেন মুসিয়ালা। কিমিখের পাস ধরে কঠিন কোণ থেকে নিচু শটে বল জালে পাঠান তিনি।

৬৭তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো বাকুনা বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। কিছুক্ষণ পর ফ্রি-কিক থেকেও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিল কুরাসাও, কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।

৬৮তম মিনিটে জার্মানির পঞ্চম গোলটি করেন ব্রাউন। উনদাভের পাস থেকে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান তিনি। ৭৮তম মিনিটে কিমিখের পাস থেকে কাছ থেকে গোল করেন বদলি নামা উনদাভ।

ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন হাভার্টজ। উনদাভের পাস পেয়ে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে পাঠান তিনি। তাতেই ৭-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় জার্মানির।

২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পথে সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে একই ব্যবধানে হারিয়েছিল জার্মানি। বেলো হরিজন্তের সেই ৭-১ এখনো বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত স্কোরলাইনগুলোর একটি। এবার কুরাসাওর বিপক্ষে সেই একই স্কোরলাইন আবার ফিরিয়ে আনল জার্মানরা।