১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগ এমপির স্ত্রীর করা মানহানি মামলা খারিজ, নয় বছর পর মুক্তি সাংবাদিকের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময়: ০২:১৭:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৬০ টাইম ভিউ

দীর্ঘ নয় বছর আইনি প্রক্রিয়া শেষে সাংবাদিক অপু খন্দকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৫ কোটি টাকার মানহানি মামলাটি খারিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইসমাইল হোসেন মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। মামলাটি খারিজের কারণ হিসেবে বাদীর ভিত্তিহীন তথ্যের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

আদালত সূত্র বলছে, সি আর মামলা নং ১২৯৪/২০১৭ মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল। ২০১৭ সালে মামলাটি দায়েরের পর দীর্ঘ নয় বছর ধরে এর আইনি কার্যক্রম চলে। অবশেষে আজ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।

সাংবাদিক অপু খন্দকার ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন-এর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি এসব এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, জনদুর্ভোগ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেন।

মামলার সূত্রে আরোও জানা যায়, ২০১৭ সালে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এম এ মালেকের বেশ কিছু দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা হয়। এসব সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক অপু খন্দকারের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেন এমপি মালেকের স্ত্রী ও বাংলাদেশ মহিলা যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী মিনা মালেক।
মামলায় সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি করার অভিযোগ আনা হয়।

তবে শুরু থেকেই মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করে আসছিলেন সাংবাদিকরা। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের আদেশে মামলাটি খারিজ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা।

আদালতের আদেশের পর সাংবাদিক অপু খন্দকার বলেন, জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে একটি মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সত্য ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। দীর্ঘদিন পর আদালতের আদেশে তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মনে করেন।

অপু খন্দকার বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক কালের কণ্ঠের (মাল্টিমিডিয়া) ঢাকা বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ দিন ধরে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হলে সেটি সমাধানে দীর্ঘসূত্রতা পেশাগত কাজে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের মামলার দ্রুত ও ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী রফিকুল ইসলাম শিহাব বলেন, ধামরাইয়ের এমপি থাকা কালে মামলার বাদী মিনা মালেকের স্বামী এমএ মালেক নানা অনিয়ম করেন। এমন অভিযোগের পর সংবাদ প্রকাশ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত আজ মামলাটি খারিজ করে দেন। আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।

ট্যাগ:

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

আওয়ামী লীগ এমপির স্ত্রীর করা মানহানি মামলা খারিজ, নয় বছর পর মুক্তি সাংবাদিকের

আপডেট সময়: ০২:১৭:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ নয় বছর আইনি প্রক্রিয়া শেষে সাংবাদিক অপু খন্দকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১৫ কোটি টাকার মানহানি মামলাটি খারিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইসমাইল হোসেন মামলাটি খারিজের আদেশ দেন। মামলাটি খারিজের কারণ হিসেবে বাদীর ভিত্তিহীন তথ্যের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

আদালত সূত্র বলছে, সি আর মামলা নং ১২৯৪/২০১৭ মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল। ২০১৭ সালে মামলাটি দায়েরের পর দীর্ঘ নয় বছর ধরে এর আইনি কার্যক্রম চলে। অবশেষে আজ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজের আদেশ দেন।

সাংবাদিক অপু খন্দকার ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন-এর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি এসব এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, জনদুর্ভোগ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেন।

মামলার সূত্রে আরোও জানা যায়, ২০১৭ সালে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এম এ মালেকের বেশ কিছু দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করা হয়। এসব সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক অপু খন্দকারের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা দায়ের করেন এমপি মালেকের স্ত্রী ও বাংলাদেশ মহিলা যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী মিনা মালেক।
মামলায় সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মানহানি করার অভিযোগ আনা হয়।

তবে শুরু থেকেই মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করে আসছিলেন সাংবাদিকরা। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের আদেশে মামলাটি খারিজ হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা।

আদালতের আদেশের পর সাংবাদিক অপু খন্দকার বলেন, জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে একটি মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সত্য ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। দীর্ঘদিন পর আদালতের আদেশে তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মনে করেন।

অপু খন্দকার বর্তমানে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দৈনিক কালের কণ্ঠের (মাল্টিমিডিয়া) ঢাকা বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ দিন ধরে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা হলে সেটি সমাধানে দীর্ঘসূত্রতা পেশাগত কাজে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের মামলার দ্রুত ও ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী রফিকুল ইসলাম শিহাব বলেন, ধামরাইয়ের এমপি থাকা কালে মামলার বাদী মিনা মালেকের স্বামী এমএ মালেক নানা অনিয়ম করেন। এমন অভিযোগের পর সংবাদ প্রকাশ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত আজ মামলাটি খারিজ করে দেন। আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।