১২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় বাড়েনি করহার, বরং সুবিধা বাড়ছে ছোটদের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময়: ০২:১৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / ৫৮ টাইম ভিউ

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর দ্বিগুণ করা হচ্ছে- এমন আলোচনা ও বিভ্রান্তির মধ্যে কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে করহার বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব সরকার থেকে নেই। বরং প্রস্তাবিত অর্থ বিল, ২০২৬-এ আনা পরিবর্তনের ফলে স্বল্প আয়ের অনেক বিনিয়োগকারী আগের তুলনায় বেশি সুবিধা পেতে পারেন।

বিদ্যমান আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কেটে রাখা ১০ শতাংশ করই চূড়ান্ত কর (ফাইনাল ট্যাক্স) দায় হিসেবে গণ্য হতো। ফলে সাধারণভাবে ওই আয়ের বিপরীতে করদাতাকে অতিরিক্ত কর দিতে হতো না।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত অর্থ বিল, ২০২৬-এ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর আদায়ের কাঠামোয় পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তন অনুযায়ী উৎসে কর চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে বিবেচিত হবে না, বরং অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য হবে। সেই সঙ্গে করহার ১০ শতাংশই বহাল রাখা হয়েছে।

এখন অর্থ বিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে ওই ১০ শতাংশ কর আর চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচিত হবে না। বরং এটি অগ্রিম কর (অ্যাডভান্স ট্যাক্স) হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত মুনাফা করদাতার মোট করযোগ্য আয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং ব্যক্তিগত আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করা হবে।

উচ্চ আয়ের বিনিয়োগকারীদের কর দায় বাড়বে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবেন স্বল্প আয়ের করদাতারা। যাদের মোট আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকবে অথবা যাদের কার্যকর করহার ১০ শতাংশের কম, তারা উৎসে কেটে রাখা কর সমন্বয় বা ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে অনেক ছোট বিনিয়োগকারীর প্রকৃত করের বোঝা কমতে পারে।

অন্যদিকে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। যাদের আয়কর হার ১০ শতাংশের বেশি, তাদের জন্য উৎসে কাটা ১০ শতাংশ কর কেবল অগ্রিম পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় প্রযোজ্য হার অনুযায়ী বাকি কর পরিশোধ করতে হবে।

কর বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সরকার করের হার বাড়াচ্ছে না, বরং সঞ্চয়পত্রের আয়কে সাধারণ আয়কর ব্যবস্থার আওতায় আনছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে উপকৃত হলেও উচ্চ আয়ের বিনিয়োগকারীদের কর দায় বাড়তে পারে।

ট্যাগ:

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় বাড়েনি করহার, বরং সুবিধা বাড়ছে ছোটদের

আপডেট সময়: ০২:১৬:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর দ্বিগুণ করা হচ্ছে- এমন আলোচনা ও বিভ্রান্তির মধ্যে কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে করহার বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব সরকার থেকে নেই। বরং প্রস্তাবিত অর্থ বিল, ২০২৬-এ আনা পরিবর্তনের ফলে স্বল্প আয়ের অনেক বিনিয়োগকারী আগের তুলনায় বেশি সুবিধা পেতে পারেন।

বিদ্যমান আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কেটে রাখা ১০ শতাংশ করই চূড়ান্ত কর (ফাইনাল ট্যাক্স) দায় হিসেবে গণ্য হতো। ফলে সাধারণভাবে ওই আয়ের বিপরীতে করদাতাকে অতিরিক্ত কর দিতে হতো না।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত অর্থ বিল, ২০২৬-এ সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর আদায়ের কাঠামোয় পরিবর্তন হয়েছে। পরিবর্তন অনুযায়ী উৎসে কর চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে বিবেচিত হবে না, বরং অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য হবে। সেই সঙ্গে করহার ১০ শতাংশই বহাল রাখা হয়েছে।

এখন অর্থ বিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে ওই ১০ শতাংশ কর আর চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচিত হবে না। বরং এটি অগ্রিম কর (অ্যাডভান্স ট্যাক্স) হিসেবে গণ্য হবে। ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত মুনাফা করদাতার মোট করযোগ্য আয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং ব্যক্তিগত আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করা হবে।

উচ্চ আয়ের বিনিয়োগকারীদের কর দায় বাড়বে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবেন স্বল্প আয়ের করদাতারা। যাদের মোট আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকবে অথবা যাদের কার্যকর করহার ১০ শতাংশের কম, তারা উৎসে কেটে রাখা কর সমন্বয় বা ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে অনেক ছোট বিনিয়োগকারীর প্রকৃত করের বোঝা কমতে পারে।

অন্যদিকে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। যাদের আয়কর হার ১০ শতাংশের বেশি, তাদের জন্য উৎসে কাটা ১০ শতাংশ কর কেবল অগ্রিম পরিশোধ হিসেবে গণ্য হবে। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় প্রযোজ্য হার অনুযায়ী বাকি কর পরিশোধ করতে হবে।

কর বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সরকার করের হার বাড়াচ্ছে না, বরং সঞ্চয়পত্রের আয়কে সাধারণ আয়কর ব্যবস্থার আওতায় আনছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে উপকৃত হলেও উচ্চ আয়ের বিনিয়োগকারীদের কর দায় বাড়তে পারে।