১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘চোরকে শাস্তি না দিয়ে ফের চুরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে’

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময়: ০২:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / ৬১ টাইম ভিউ

ফাইল ছবি

ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাটকারীদের শাস্তি না দিয়ে উল্টো তাদের ফের চুরির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। একইসঙ্গে তিনি বাজেটে জাকাত ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, সম্পূরক বাজেটের ধরন এবং সরকারি অপচয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাজেটের সমালোচনা করে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকা তারল্য ছিল। এস আলম ও তার দলের লোকেরা সেই টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে।আমরা চোরকে ধরে শাস্তি দেওয়ার দাবি করেছিলাম, কিন্তু ওই চোরকে আবার এনে চুরি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সামনের সারিতে যারা বসে আছেন, খোঁজ নিলে দেখা যাবে তাদের পরিবারের সদস্যরা এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িত।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীর জাকাত প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার কড়া সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বড় একটি বাজেট বক্তৃতা করেছেন, কিন্তু তার বক্তৃতায় একবারও জাকাতের কথা উল্লেখ নেই। দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে জাকাতের মতো একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাতের কথা উচ্চারণ করা হয়নি। জাকাত চালু করলে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হতো।

বাজেটে সুদ ও ব্যবসাকে এক করে ফেলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন, অথচ এগুলো বাস্তবায়নের কোনো চিন্তা নেই।

সম্পূরক বাজেট পাসের প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় এই সদস্য বলেন, সম্পূরক বাজেট পাস করার প্রক্রিয়াটি মোটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়। আগে টাকা খরচ করে ফেলে তারপর সংসদে অনুমোদন চাওয়া হয়। কাজ তো করেই ফেলেছেন, আকাম যা করার তা হয়েই গেছে, এখন আর কী করার আছে! দুর্নীতি ও অপচয়ের বিষয়ে বাজেটে কোনো কথা বলা হয়নি।

সরকারি অপচয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই সংসদ ভবনেই একটি কক্ষে ১৮ থেকে ৩৬টি পর্যন্ত লাইট জ্বালানো থাকে। একটা-দুটো লাইট জ্বালালেই তো হয়। এত অপচয় করলে আল্লাহ ধরবেন না? পবিত্র কোরআনে পরিষ্কার বলা আছে, ‘অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই’। আমরা যদি অপচয় না ঠেকাই, তবে আমরা সবাই শয়তানের ভাই হয়ে যাব। অর্থমন্ত্রীর উচিত ছিল অপচয় রোধের বিষয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া।

মদ ও সিগারেটের দাম সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, সংসদে কেউ কেউ এমনভাবে কথা বলছেন যেন মদ আর সিগারেট আমাদের নিজেদের জিনিস, এগুলোকে লালন-পালন করতে হবে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এছাড়াও সংসদে অনেক নতুন সংসদ সদস্য স্পিকার বা ডেপুট স্পিকারকে সম্বোধন করতে ভুল করছেন উল্লেখ করে তিনি সংসদ সদস্যদের সংসদীয় রীতিনীতির ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, সংসদে স্পিকারের চেয়ারে যিনিই বসবেন, তিনি স্পিকার হিসেবেই গণ্য হবেন। অথচ অনেকেই তাকে ডেপুটি স্পিকার বলে সম্বোধন করছেন।

নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় স্পিকার তাকে তিন মিনিট সময় বেঁধে দিলে তিনি আক্ষেপ করে তার বক্তব্য শেষ করেন। এরপর স্পিকার সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনকে ফ্লোর দেন।

ট্যাগ:

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

‘চোরকে শাস্তি না দিয়ে ফের চুরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে’

আপডেট সময়: ০২:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাটকারীদের শাস্তি না দিয়ে উল্টো তাদের ফের চুরির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। একইসঙ্গে তিনি বাজেটে জাকাত ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, সম্পূরক বাজেটের ধরন এবং সরকারি অপচয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

রোববার (১৪ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বাজেটের সমালোচনা করে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকা তারল্য ছিল। এস আলম ও তার দলের লোকেরা সেই টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে।আমরা চোরকে ধরে শাস্তি দেওয়ার দাবি করেছিলাম, কিন্তু ওই চোরকে আবার এনে চুরি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সামনের সারিতে যারা বসে আছেন, খোঁজ নিলে দেখা যাবে তাদের পরিবারের সদস্যরা এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িত।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীর জাকাত প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার কড়া সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বড় একটি বাজেট বক্তৃতা করেছেন, কিন্তু তার বক্তৃতায় একবারও জাকাতের কথা উল্লেখ নেই। দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে জাকাতের মতো একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাতের কথা উচ্চারণ করা হয়নি। জাকাত চালু করলে মানুষের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা সম্ভব হতো।

বাজেটে সুদ ও ব্যবসাকে এক করে ফেলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন, অথচ এগুলো বাস্তবায়নের কোনো চিন্তা নেই।

সম্পূরক বাজেট পাসের প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় এই সদস্য বলেন, সম্পূরক বাজেট পাস করার প্রক্রিয়াটি মোটেও বিজ্ঞানসম্মত নয়। আগে টাকা খরচ করে ফেলে তারপর সংসদে অনুমোদন চাওয়া হয়। কাজ তো করেই ফেলেছেন, আকাম যা করার তা হয়েই গেছে, এখন আর কী করার আছে! দুর্নীতি ও অপচয়ের বিষয়ে বাজেটে কোনো কথা বলা হয়নি।

সরকারি অপচয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই সংসদ ভবনেই একটি কক্ষে ১৮ থেকে ৩৬টি পর্যন্ত লাইট জ্বালানো থাকে। একটা-দুটো লাইট জ্বালালেই তো হয়। এত অপচয় করলে আল্লাহ ধরবেন না? পবিত্র কোরআনে পরিষ্কার বলা আছে, ‘অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই’। আমরা যদি অপচয় না ঠেকাই, তবে আমরা সবাই শয়তানের ভাই হয়ে যাব। অর্থমন্ত্রীর উচিত ছিল অপচয় রোধের বিষয়ে বাজেটে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া।

মদ ও সিগারেটের দাম সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, সংসদে কেউ কেউ এমনভাবে কথা বলছেন যেন মদ আর সিগারেট আমাদের নিজেদের জিনিস, এগুলোকে লালন-পালন করতে হবে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এছাড়াও সংসদে অনেক নতুন সংসদ সদস্য স্পিকার বা ডেপুট স্পিকারকে সম্বোধন করতে ভুল করছেন উল্লেখ করে তিনি সংসদ সদস্যদের সংসদীয় রীতিনীতির ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, সংসদে স্পিকারের চেয়ারে যিনিই বসবেন, তিনি স্পিকার হিসেবেই গণ্য হবেন। অথচ অনেকেই তাকে ডেপুটি স্পিকার বলে সম্বোধন করছেন।

নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় স্পিকার তাকে তিন মিনিট সময় বেঁধে দিলে তিনি আক্ষেপ করে তার বক্তব্য শেষ করেন। এরপর স্পিকার সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনকে ফ্লোর দেন।