০১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্যৈষ্ঠের খরতাপে তালশাঁস বিক্রি করে ভাগ্যবদল শতাধিক পরিবারের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময়: ০১:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / ২৯ টাইম ভিউ

জ্যৈষ্ঠের তীব্র খরতাপে অতিষ্ঠ জনজীবন। অসহ্য এ গরমে একটুখানি প্রশান্তি আর শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে যশোরের শার্শা ও বেনাপোল অঞ্চলে বাড়ছে কচি তালের শাঁসের চাহিদা। ফলন কম হওয়ায় দাম কিছুটা চড়া হলেও পুষ্টিকর ও সুস্বাদু এ ফলের স্বাদ নিতে কার্পণ্য করছেন না ক্রেতারা। একদিকে সাধারণ মানুষের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে মৌসুমি এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় প্রায় শতাধিক পরিবার।

শার্শা-বেনাপোলের ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন হাট-বাজারের মোড়ে বিক্রেতারা বিক্রি করছেন তালশাঁস। এছাড়া ভ্যানযোগে ভ্রাম্যমাণ তালশাঁস বিক্রেতাদের সংখ্যাও কম নয়। বর্তমানে প্রতিটি তাল শাঁস ৫-৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘৩টি গাছের তাল ৪ হাজার টাকায় কিনেছি। গাছ থেকে তাল নামাতে ২ জন শ্রমিককে দিয়েছি ১ হাজার টাকা আর ভাড়া লেগেছে ২০০ টাকা। বেনাপোল বাজারে সড়কের পাশে প্রতিটি তাল বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২৫ টাকা। এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত তালশাঁস বিক্রি করে আয় হয় প্রায় ২০-৩০ হাজার টাকা।’

জ্যৈষ্ঠের খরতাপে তালশাঁস বিক্রি করে ভাগ্যবদল শতাধিক পরিবারের

নাভারন ও বাগআঁচড়ার ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন ও আশিকুর জানায়, চলতি মৌসুমে তালের ফলন কম হওয়ায় তাল শাঁসের সংকট রয়েছে। ফলে চড়া মূল্যে তাল শাঁস বিক্রি করতে হয়। প্রতিটি তালশাঁস ১৫ থেকে ২৫ টাকা। এতে তারা প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে তালের ফলন কম হওয়ায় বিক্রেতাদের আনা তালশাঁস মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। গ্রীষ্মকালে তালপাতা পাখার বাতাস গ্রামের মানুষের শরীরে যেমন হিমেল পরশ দেয়। তেমনি ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাড়িঘর ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। তাল গাছের অভাবে এখন আর চোখে পড়েনা বাবুই পাখির বাসা। পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ অঞ্চলে তালগাছ এখন বিলুপ্ত প্রায়। ফলে, ঐতিহ্যবাহী তালের রস, তালের গুড় ও তালের পাটালি এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।’

ট্যাগ:

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জ্যৈষ্ঠের খরতাপে তালশাঁস বিক্রি করে ভাগ্যবদল শতাধিক পরিবারের

আপডেট সময়: ০১:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

জ্যৈষ্ঠের তীব্র খরতাপে অতিষ্ঠ জনজীবন। অসহ্য এ গরমে একটুখানি প্রশান্তি আর শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে যশোরের শার্শা ও বেনাপোল অঞ্চলে বাড়ছে কচি তালের শাঁসের চাহিদা। ফলন কম হওয়ায় দাম কিছুটা চড়া হলেও পুষ্টিকর ও সুস্বাদু এ ফলের স্বাদ নিতে কার্পণ্য করছেন না ক্রেতারা। একদিকে সাধারণ মানুষের তৃষ্ণা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে মৌসুমি এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় প্রায় শতাধিক পরিবার।

শার্শা-বেনাপোলের ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন হাট-বাজারের মোড়ে বিক্রেতারা বিক্রি করছেন তালশাঁস। এছাড়া ভ্যানযোগে ভ্রাম্যমাণ তালশাঁস বিক্রেতাদের সংখ্যাও কম নয়। বর্তমানে প্রতিটি তাল শাঁস ৫-৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘৩টি গাছের তাল ৪ হাজার টাকায় কিনেছি। গাছ থেকে তাল নামাতে ২ জন শ্রমিককে দিয়েছি ১ হাজার টাকা আর ভাড়া লেগেছে ২০০ টাকা। বেনাপোল বাজারে সড়কের পাশে প্রতিটি তাল বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২৫ টাকা। এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত তালশাঁস বিক্রি করে আয় হয় প্রায় ২০-৩০ হাজার টাকা।’

জ্যৈষ্ঠের খরতাপে তালশাঁস বিক্রি করে ভাগ্যবদল শতাধিক পরিবারের

নাভারন ও বাগআঁচড়ার ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন ও আশিকুর জানায়, চলতি মৌসুমে তালের ফলন কম হওয়ায় তাল শাঁসের সংকট রয়েছে। ফলে চড়া মূল্যে তাল শাঁস বিক্রি করতে হয়। প্রতিটি তালশাঁস ১৫ থেকে ২৫ টাকা। এতে তারা প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে তালের ফলন কম হওয়ায় বিক্রেতাদের আনা তালশাঁস মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। গ্রীষ্মকালে তালপাতা পাখার বাতাস গ্রামের মানুষের শরীরে যেমন হিমেল পরশ দেয়। তেমনি ঝড়-বৃষ্টি থেকে বাড়িঘর ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। তাল গাছের অভাবে এখন আর চোখে পড়েনা বাবুই পাখির বাসা। পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ অঞ্চলে তালগাছ এখন বিলুপ্ত প্রায়। ফলে, ঐতিহ্যবাহী তালের রস, তালের গুড় ও তালের পাটালি এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।’