জোড়া লাগা যমজ শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময়: ১২:০৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৭০ টাইম ভিউ
কুষ্টিয়ার জোড়া লাগানো জমজ শিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার রাতে শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে শিশু দুটিকে পৃথক করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে জোড়া লাগানো শিশু দুটিকে দেখতে হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।এ সময় তিনি শিশু দুটির পরবর্তী চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমে শিশু দুটির খবর প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।টাকার অভাবে তারা চিকিৎসা নিতে পারছে না। এরপরই প্রধানমন্ত্রী তাকে বিষয়টি দেখতে এবং শিশু দুটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেন।তখন তারা গ্রামে থাকা শিশু দুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের ঢাকায় নিয়ে আসেন।
তিনি জানান, শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অস্ত্রোপচারসহ যাবতীয় চিকিৎসার খরচ সরকারের পক্ষ থেকে বহন করা হবে।
শিশু দুটির শারীরিক জটিলতা নিয়ে কথা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সদরুদ্দিন আল মাসুদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, সোমবার রাতেই জোড়া লাগানো শিশু দুটি হাসপাতালে এসেছে। তাদের কেবিনে ভর্তি রাখা হয়েছে। শিশু দুটির বুক ও পেট জোড়া লাগানো। মঙ্গলবার মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে তাদের চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দিলগাতুয়া গ্রামের মো. আলী ওরফে নাহিদ হাসান ও সানজিদা ইয়াসমিন মুক্তা দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান তারা। এর আগে নোমান নামে দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। নাহিদ হাসান গ্রামে একটি দোকানে ১০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন।
নাহিদ হাসান জানান, গর্ভাবস্থার পাঁচ মাসের সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তারা জানতে পারেন, জোড়া শিশু হওয়ার বিষয়টি। এরপর আট মাসের সময় চিকিৎসকরা তাদের জানান, শিশু দুটি একে অপরের সঙ্গে জোড়া লাগানো।
পরবর্তীতে তিন মাস সাত দিন আগে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্ম হয়। জন্মের চার দিন পর নবজাতক দুটিকে নিয়ে গ্রামে চলে যান তারা।
আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিশু দুটির চিকিৎসা ও পৃথককরণের বিষয়ে কোনো চিকিৎসা করাতে পারছিল না পরিবারটি। এর মধ্যেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।











